ভাড়াটে শহুরে

আমি এক ভাড়াটে শহুরে লোক

দেখি লক্ষ যমজ মানুষ,

চেনা, তবুও অচেনা,

একই চেহারার, একই ভিড়ে,

কেউ গাড়িতে-জ্যামে, কেউবা রাস্তার কোণে,

থেমে যায়, হেঁটে যায়, হেঁটে যায়, মিশে যায়, হারিয়ে যায়।

 

হাজারো গলার গমগম;

গাড়ির সারি শয়ে শয়ে,

হাজার হর্নের থেমেথেমে চলা প্রলাপ,

থেকে থেকে কেনাবেচার হাঁক,

তিন চারটে নেড়িকুত্তার ঘেউঘেউ,

নোংরা দেহ,

দুর্ঘন্ধ,

ডাস্টবিন,

বেঢপ গাছের পাতার ধুলোর আস্তর,

হুড়োহুড়ি-গাদাগাদি।

 

আমার এই ভাড়াটে চোখ দিয়েই দেখি

ওই বাসখানা আমার,

ওই পাজেরোটা আমার,

ওই সুন্দর লম্বা মেয়েটা আমার,

দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার কালো জুতোজোড়া আমার।

 

ভাড়ার ঘরটায় যেতে মন চায়না

সেই একই ধোঁয়া,

ডাল-ভাত,

একই টিকটিকি-মাকড়সার সংসার,

পাশ ফিরে ফিরে শুয়ে থাকা।

 

এখানেই পড়ে আছি,

দেখছি,

সব ভাড়ায় খাটা লোকদের,

তাদের ভাড়ার রোজকার রোজগার,

মিশে যাচ্ছি সব ভাড়া করা শুকনো মনের সাথে,

প্রেমের সাথে,

আমার মাসকাবারি অস্তিত্বের সাথে,

এখানেই বাপের ভিটে,

পুরোনো সরষে ফুলের স্মৃতি,

ঝরা পাতার শুকনো ঘ্রাণ,

জলজল জোছনার জল,

নক্ষত্রের রাতের গান।

তারিখ: ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫

প্রকাশক: সাবিহা হক, অধ্যাপক, ইংরেজি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ

all rights reserved by - Publisher

Site By-iconAstuteHorse