কুয়াশার দাবী

শীত জমেছে ভালোই,

কুয়াশা তার চাদরখানা আজ আর মুড়িয়ে দেয়নি।

বাতাসের রাসভারী স্বভাব এমন নতুন কিছু নয়

তবুও স্তব্ধতার পর্দাটা আজ কিরকম ভেজা।

লোকজন কেউ নেই, ঝি ঝি ডাকগুলোও বেঢক,

নেড়িকুত্তার ঘেউঘেউ শোনা যায় থেকে থেকে।

ডাকগুলো কি একটু বেশিই নিস্তেজ?

ওরাই বা এই ঠান্ডায় চাদর পাবে কোত্থেকে,

তাকালাম নিজের চাদরটার দিকে আরেকবার,

আরেকটু আঁট করে নেওয়া যাক,

মলিন কাপড়টাই সম্বল।

রাত বাড়ছে, ঘরে তো ফিরতেই হবে।

নাহ, ঠান্ডাটা বড়ো বেশীই।

 

হাঁটতে খারাপ লাগছে না বটে, একটা ওম এটে ধরতে চায়।

হঠাৎ হুশহুশ আওয়াজ!

জ্বীন-ভূতের আছরের ভয়ও হয়,

না আবার দুটো কুকুর জোর ঘেউঘেউ করে ওঠে।

আল্লাহু লা ইলাহা…

পথও ফুরোচ্ছে না যেন।

রাতের, শীতের, ভূতের, প্রেতের, সবার খেলা নেমেছে যেন,

মত্ত সব এখন ভয় দেখাতে প্রস্তুত।

আরে গলিখানায়ও তো বাতাস ভর করেছে,

সারাদিনের শোরগোলের পর জায়গাটাও যে এখন জ্বীন ভূতের দখলে।

 

দু একটা বাড়ির জানালায় এখনো হলুদরঙ আলো,

এখনো কেউ কেউ জেগে আছে বটে।

এদের আর কি,

চাইলেই তো কম্বলের তলায় সুখে থাকতো,

বেশি আরাম সহ্য হয় না,

বা হয়তো ঝগড়া আছে, কান্না আছে, রাগ আছে, মান-অভিমান কিংবা হত্যার ষড়যন্ত্র কিংবা একাকীত্ব।

থেকে থেকে কথার আওয়াজ ভাসে, আবার গিটার গান বাজনার সুরও ভেজে ওঠে হঠাৎ,

এতো বেসুরো মনে হয় সব।

হানাবাড়িটা আজ বেশিই নীরব,

ল্যাম্পপোস্ট তার ঠায় দাড়িয়ে, কানাগলির হিস্টোরিয়ান,

যার হয়তো এই ঠান্ডায় কিছু হবার নয়।

ভিখারিদের গাদাগাদি দেখে আজ লোভ হলো,

সুখ ওখানেই, বড্ড ওম যে।

 

এইতো আর একটু বাকি,

পথগুলো একেকদিন তার ইচ্ছেমতো বড় হয়ে যায়,

সারাদিনের ধকলের পর আর ভালো লাগে?

নিজের ঘরেও শান্তির খোঁজ অবান্তর,

বারবার পাশ ফিরেও যে এখন ঘুম আনা যায় না।

শুধু মনে ভাসে সুন্দর মহিলার কোনো মুখ অথবা কিম্ভূত সব চিন্তা,

আরে কেউ গেল সামনে দিয়ে! না এত রাতে লোকের কাজ কি?

পথটাকে নিজের বলে এমনিতেও ভাবতে ইচ্ছে করে না,

তাও অন্যলোকের এই পথের দাবী সহ্য হয় না।

 

সিঁড়িতে এতটা হালকা আগে মনে হয় নি,

বেঁচে গেলাম তাহলে,

এত শীত করলে মানুষ বাঁচে?

দেহখানা এতক্ষণে ছেড়ে দিতে চায়,

কিন্তু ঘরে ঢুকে সেই পুরোনো গুমোট চেহারা,

যেখানে স্বপ্ন দেখতে হয় কিন্তু স্বপ্ন পূরণ হবার আশা করতে মন চায় না,

সর্বক্ষণ যেখানে ভেসে বেড়ায় প্রথমবার টানা সিগারেটের ব্রহ্মতালুভেদী ধোঁয়ার কুন্ডলি,

শাহজাহানের কুয়াশাজড়ানো দীর্ঘশ্বাস, হাজার তাজমহলের চেয়েও ভারী।

তারিখ: ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫

প্রকাশক: সাবিহা হক, অধ্যাপক, ইংরেজি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ

all rights reserved by - Publisher

Site By-iconAstuteHorse